হাওজা নিউজ এজেন্সি: রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ—মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি” শীর্ষক শোক সমাবেশে তিনি বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশেরও কয়েকটি জাহাজ সেখানে আটকা পড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করব—ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই জাহাজগুলো প্রণালী পার হতে পারবে।”
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ভাইয়ের দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আমাদের মধ্যে কোনো শত্রুতা নেই।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা পাকিস্তান ও ওমানসহ সকল সহযোগী দেশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে—সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনার সুযোগ থাকলে তবেই আলোচনায় বসবে।”
তিনি আরও জানান, “যুদ্ধবিরতির সময়সীমা পর্যন্ত ইরান হামলা বন্ধ রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধবিরতি না মানে ও আগ্রাসন চালায়, তাহলে আমরাও প্রতিরোধে বাধ্য হব।”

রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কখনো শান্তি চায় না। তারা ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের জনগণ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে, আমেরিকার ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। তারা হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায়ও ব্যর্থ হয়েছে।”
ইরানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোয় মার্কিন-ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমেরিকা ও ইসরাইল নিষ্পাপ শিশুদের ওপর হামলা চালিয়ে গণহত্যা করেছে। ইরান এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আমরা কখনো যুদ্ধ চাই না, কিন্তু তারা শান্তি চায় না।”
সমাবেশে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, “সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল আজ ইরানের শিশুদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলার মতো আচরণ করছে। স্কুলে বোমা হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করা মানবতার ওপর চরম আঘাত।” তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না, ফজলুর রহমান, ডা. নাবিল আহমদ, জিহাদী ইহসান, এবং বিভিন্ন শাখার আহ্বায়ক ও সদস্যগণ।
এ সময় জালালুদ্দিন রুমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ ও উপস্থিত ছিলেন।
আপনার কমেন্ট